Header Ads Widget

হযরত ঈসা আঃ এর জীবনী (সংক্ষিপ্ত)

হযরত ঈসা আঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী। 


মানুষের মুক্তির পয়গাম নিয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ হতে যেসব নবি ও রাসুল আগমন করেছেন হযরত ঈসা (আ.) তাদের অন্যতম।

হযরত ঈসা (আ.) এর জন্মস্থানঃ ফিলিস্তিনের বাইত লাহম' (বেথেলহাম) নামক গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতার নাম মারিয়াম বিনতে হান্না বিনতে ফাখুজ। হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহর হুকুমে পিতা ছাড়াই জন্ম গ্রহণ করেন । তাঁর জন্ম সাল হতেই খ্রিষ্টাব্দ গণনা করা হয়। পবিত্র কুরআনে তাঁকে মাসিহ ইবনে মারিয়াম' কালিমাতুল্লাহ ও রুহুল্লাহ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়েছে।

হযরত ঈসা (আ.) এর উপর কিতাব অবতীর্ণঃ-  হযরত ঈসা (আ.) এর উপর আসমানি কিতাব ইঞ্জিল নাজিল হয়েছে । 

হযরত ঈসা (আ.)এর মুজিজাঃ আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মু'জিযা (অলৌকিক ক্ষমতা) দান করেন। তিনি দোলনায় থাকাবস্থায় বাক শক্তি
লাভ করেন। আল্লাহ তায়ালা মু'জিযা হিসাবে তাঁকে মৃতকে জীবিত করা, জন্মান্ধকে চক্ষুদান করা, শ্বেত কুষ্ঠ রােগীকে আরােগ্য করার শক্তি দান করেছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে মাটির তৈরি পাখিতে ফুকার দিয়ে জ্যান্ত বানিয়ে ফেলতেন। আল্লাহ বলেন,  “আমি তােমাদের জন্য মাটি দ্বারা একটি পাখির আকৃতি তৈরি করব। অতঃপর তাতে ফুৎকার দেব। ফলে

আল্লাহর হুকুমে সেটি পাখি হয়ে যাবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করব এবং আল্লাহর হুকুমে মৃতকে জীবিত করব।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ৪৯)

হযরত ঈসা (আ.) কে হত্যার ষড়যন্ত্রঃহত্যার ষড়যন্ত্র হযরত ঈসা (আ.) ইহুদিদেরকে তাদের অপকর্ম হতে বাধা দিলে তারা তাঁর উপর খুব ক্ষিপ্ত হয় এবং তাঁকে অনেক কষ্ট দেয়। পাশাপাশি হত্যার ষড়যন্ত্রও করে। এ হীন উদ্দেশ্যে তারা হযরত ঈসা (আ.)-এর ঘর অবরােধ করে এবং তাঁকে হত্যা করার জন্য তাইতালানুস’ নামক জনৈক নরাধমকে পাঠায়। কিন্তু মহান আল্লাহ হযরত ঈসা (আ.)-কে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নেন। আর তাইতালানুস' নামক ঐ ব্যক্তিকে হযরত ঈসা (আ.)-এর আকৃতি দান করেন। সে হযরত ঈসা (আ.)-কে কোনাে কিছু করতে না পেরে বাইরে চলে আসে। অপেক্ষমান লােজন তাকে হযরত ঈসা (আ.) মনে করে পাকড়াও করে। অতঃপর সবাই মিলে তাকে ক্রুশ বিদ্ধ করে হত্যা করে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন,
তারা তাকে (ঈসা-কে) হত্যাও করে নি ক্রুশবিদ্ধও করে নি বরং তারা এরূপ ভ্রান্তিতে পতিত হয়েছিল, যারা তার সম্পর্কে মতবিরােধ করেছিল, তারা নিশ্চয়ই এ সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল। এ সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত অদের কোনাে জ্ঞানই ছিল না। এটা নিশ্চিত যে তারা তাকে হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তাকে তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন আর আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত :১৫৭-১৫৮)
হযরত ঈসা (আ.) কে পুনরায় দুনিয়াতে প্রেরণঃপুনরায় দুনিয়ায় আগমন শেষ জামানায় পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগে হযরত ঈসা (আ.) পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করবেন। এসে তিনি ৪০ বছর পৃথিবীতে অবস্থান করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। জিযিয়া প্রথা
(অমুসলিম থেকে আদায়কৃত নিরাপত্তা কর) তুলে দেবেন। ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন। সমস্ত শূকর মেরে ফেলবেন। আল্লাহর ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। এ সময় পৃথিবীর লােকজনের আর্থিক অবস্থা এত উন্নত হবে যে, দান-সদকা নেওয়ার মতাে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। হযরত ঈসা (আ.) মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উম্মত হয়ে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামের দিকে আহ্বান করবেন। এরপর তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবেন এবং তাঁকে রাসুল (স.)-এর রওজা মুবারকের পাশে দাফন করা হবে। কিয়ামতের দিন তাঁরা দুজন একই স্থান হতে উঠবেন।

ভ্রান্ত বিশ্বাসঃ-  খ্রিষ্টানরা নিজেদেরকে হযরত ঈসা (আ.)-এর উম্মত মনে করে। অধিকাংশ খ্রিষ্টান বিশ্বাস করে যে, হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহর পুত্র, মারিয়াম (আ.) আল্লাহর স্ত্রী এবং হযরত ঈসা (আ.)-কে ইহুদিরা ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছে। তবে কিছুসংখ্যক খ্রিষ্টান যারা হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি ইমান এনেছিল ও তাঁকে সাহায্য করেছিল তাদেরকে পবিত্র কুরআনে ‘ হাওয়ারি’ (সাহায্যকারী) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যারা হযরত ঈসা (আ)-কে আল্লাহর পুত্র বলে মনে করে তাদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ বলেন,
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

অনুবাদঃ- বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়। আল্লাহ মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয় নি।” (সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ১-৩)

হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল। তাঁকে আল্লাহর বিশেষ কুদরতে পিতা ব্যতীত সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর সৃষ্টিকে হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা হয়েছে। হযরত ঈসা (আ.) সংসারত্যাগী ছিলেন। কোনাে ঘরও বাঁধেন নি এবং বিয়েও করেন নি। সারা জীবন তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ) প্রচার করে অতিবাহিত করেছেন। তাঁর উম্মতেরা তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে শিরকে লিপ্ত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ.)-কে পিতামাতা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তার জন্য হযরত ঈসা (আ.)-কে শুধু পিতা ছাড়া সৃষ্টি করা মােটেও কঠিন ব্যাপার নয়। তাই হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলার কোনাে কারণ নেই। হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্য আল্লাহর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং সকলের উচিত তার ব্যাপারে সঠিক আকিদা পােষণ করা যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তিনি স্বাভাবিকভাবেই ইন্তিকাল করবেন। আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করব এবং হযরত ঈসা (আ.)- কে আল্লাহর রাসুল হিসেবেই বিশ্বাস করব।

Post a Comment

0 Comments